ব্লাড সুগার, কেনো, কখন এবং কত বার চেক করবেন?

ব্লাড সুগার, কেনো, কখন এবং কত বার চেক করবেন?

ডায়াবেটিস এক নীরব মহামারীর  নাম।
বাংলাদেশে প্রায় এক কোটি মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত।
ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রন না থাকায় ডায়াবেটিসের রোগীরা খুব দ্রুতোই হার্ট, কিডনী, ব্রেন, রক্তনালী এবং চোখের নানা অসুখে আক্রান্ত হচ্ছেন।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রন করতে হলে প্রথমেই জানা প্রয়োজন ব্লাড সুগার, কেনো, কখন এবং কত বার চেক করবেন?।

Diabetic Machine

চলুন শুরুতেই জেনে নেই ব্লাড সুগার কমেছে বা বেড়েছে, তা বুঝবেন কিভাবে…

ব্লাড সুগার কমে যাওয়ার লক্ষনঃ

ক্ষুধার্ত বোধ করা, মাথা ব্যথা, মাথা ঘোরা, ঝিম ঝিম ভাব লাগা, মনোযোগ ধরে রাখতে না পারা, খিটখিটে মেজাজ, অতিরিক্ত ঘাম, কাঁপুনি, বমি বমি ভাব, পেশী দুর্বলতা, শারীরিক ভারসাম্যহীনতা।

খুব বেশি মাত্রায় ব্লাড সুগার কমে গেলে খিঁচুনি হওয়া, শ্বাস প্রশ্বাসে ধীরগতি, এমনকি অজ্ঞান হয়ে রোগী কোমায় পর্যন্ত চলে যেতে পারে।

ব্লাড সুগার বেড়ে যাওয়ার লক্ষনঃ

তৃষ্ণা বেড়ে যাওয়া, ঘন ঘন প্রস্রাব, অবসাদগ্রস্ত লাগা, বমি বমি ভাব এবং বমি, পেট ব্যথা, খুব শুকনো মুখ, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, ইত্যাদি ।

খুব বেশি মাত্রায় ব্লাড সুগার বেড়ে গেলে অজ্ঞান হয়ে রোগী কোমায় পর্যন্ত চলে যেতে পারে।

কেনো ব্লাড সুগার চেক করতে হবেঃ

উপরের লক্ষণগুলো থেকে নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছেন,
ব্লাড সুগার খুব বেশী কমে বা বেড়ে গেলে রোগী অজ্ঞান হয়ে কোমায় পর্যন্ত পৌছে যেতে পারে। 


তাই এ ধরনের জটিলতা এড়াতে ব্লাড সুগার নিয়মিত চেক করতে হবে এবং ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রনে রাখতে হবে ।

কখন ব্লাড সুগার চেক করবেনঃ

ডায়াবেটিসের রোগীদের উপরে উল্লেখিত লক্ষণগুলো প্রকাশ পাওয়া মাত্রই প্রথম কাজ হলো ব্লাড সুগার চেক করা।

এছাড়া স্বাভাবিক অবস্থাতে ও, আপনার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে আছে কিনা তা জানতে,
ইনসুলিন বা ডায়াবেটিসের ওষুধের ডোজ বা মাত্রা ঠিক করতেও বার বার সুগার চেক করার প্রয়োজন হতে পারে।

এজন্য, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের বাসায় ব্লাড সুগার মাপার মেশিন থাকা অত্যন্ত জরূরী।

অবিশ্বাস্য দামে, স্পেশাল অফারে
কিনুন ব্লাড সুগার মেশিনঃ


Widget not in any sidebars

দিনে কতোবার সুগার চেক করবেনঃ

এ প্রশ্নের উত্তর সব রোগীদের ক্ষেত্রে, সব পরিস্থিতিতে এক নয়।

কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে যেমন সুগার বেড়ে গেছে বা কমে গেছে,
এমন মনে হলে তাৎক্ষণিক ভাবে সুগার মাপা প্রয়োজন।

**ডাক্তার আপনার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনের জন্য নতুন ইনসুলিন ব্যাবহার করতে বলেছেন।
এমন অবস্থায় দিনে অন্তত চার বার আপনার ব্লাড সুগার চেক করা প্রয়োজন।
কারন, ইনসুলিন এর পরিমান ব্লাড সুগার অনুযায়ী কমানো বা বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে।

**আগামী সপ্তাহে ডাক্তার দেখানোর তারিখ,
আপনার উচিত, পাচ দিনের ব্লাড সুগারের পরিমান রেকর্ড করা এবং তা ডাক্তার দেখানোর সময় সাথে নিয়ে যাওয়া।
এতে আপনার ওষুধ, ইনসুলিন বা জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনার প্রয়োজন হলে তা সঠিক ভাবে করতে ডাক্তার সাহেবের সুবিধা হবে।

**দু ধরনের ডায়াবেটিসের রোগীদের ব্লাড সুগার মাপার প্রয়োজনীয়তা দুরকম।

টাইপ-১ ডায়াবেটিসের রোগীদের দিনে ১০ বার পর্যন্ত ব্লাড সুগার মাপার প্রয়োজন হতে পারে।

টাইপ-২ ডায়াবেটিসের রোগীদের দিনে ৪-৫ বার ব্লাড সুগার মাপার প্রয়োজন হতে পারে।

একজন টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীর ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রনে আছে কিনা,
তা জানতে দিনে ৪ বার সুগার চেক করা যেতে পারে । যেমনঃ

সকালে নাস্তার আগে (খালি পেটে), নাস্তার দু ঘন্টা পর,
দুপুরের খাবারের দু ঘন্টা পর, রাতের খাবারের পর (ঘুমানোর আগে)

 

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রন করতে হলে নিয়মিত ব্লাড সুগার মাপুন।

 

ডায়াবেটিস লগ বইয়ে ব্লাড সুগারের রেকর্ড লিপিবদ্ধ করুন,
পরবর্তী সাক্ষাতের সময় আপনার ডাক্তারকে তা দেখান।

 

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রেখে সুস্থ্য জীবনযাপন করছে বহু মানুষ, আপনি ও পারবেন।

লিখেছেনঃ

ডাঃ মোহাম্মদ শাকিলুজ্জামান

জেনারেল ফিজিশিয়ান

লেখক পরিচিতি

তথ্যসুত্রঃ

ADA

NICE

ডায়াবেটিস এর ব্যাপারে আরো জানুনঃ

ডায়াবেটিস, ভুল ধারনায় আমরা…১ম পর্ব

আমাদের ব্লগে ডাক্তার লিখছেন নিয়মিত।
লিখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক বা ফলো করুন।

  • 29
    Shares
  • 29
    Shares

Offer, Discount, Cashback & Many More

X