ডায়রিয়াজনিত অসুখে করনীয়

প্রচন্ড গরমে ডায়রিয়াঃ

প্রচন্ড গরম এবং বেশী আর্দ্র আবহাওয়ায় দেহ থেকে ঘামের মাধ্যমে পানি বেড়িয়ে যাওয়ায় আমাদের পিপাসা বেড়ে যায়। পিপাসা নিবারণে, সাধারন পানির পাশাপাশি শরবত বা এ জাতীয় পাণীয় আমরা রাস্তার পাশ থেকে হরহামেশাই খেয়ে থাকি। বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে অপরিশোধিত পানি দিয়ে তৈরি এসব পাণীয় বা খাবার এর কারনে গরম কালে ডায়রিয়া বা পানি বাহিত রোগ গুলো বেড়ে যায়।

ডায়রিয়া কিঃ

ডায়রিয়া সাধারন একটি অসুখের নাম, যা সাধারনত নিজে থেকেই সেরে যায় । কিন্তু ডায়রিয়া হলে অবশ্যকরণীয় কিছু বিষয় অগ্রাহ্য করলে এ সাধারন অসুখটিই প্রাণঘাতী হতে পারে। ডায়রিয়াতে রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হবার একটিই কারন, তা হল পানিশূন্যতা এবং লবণের ঘাটতি। বার বার পাতলা পায়খানার কারনে শরীর থেকে লবণ এবং পানি বেড়িয়ে যাওয়ার কারনে  পানি শূন্যতা এবং লবণের তারতম্য হয়। তা ঠিক সময়ে সঠিক ভাবে পুরন করতে না পারলে ডায়রিয়া নামক সাধারন অসুখটিই হয়ে উঠতে পারে প্রাণঘাতী। এ কারনে শিশু এবং বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে ডায়রিয়ার বিষয়ে বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরী।

ডায়রিয়ার চিকিৎসাঃ

সাধারনত ডায়রিয়ার জন্য কোনো ধরনের ওষুধ ব্যাবহারের প্রয়োজন হয় না। এন্টিবায়োটিকের সাধারন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে একটি হলো ডায়রিয়া। ডায়রিয়া দ্রূতো ভালো করতে ফার্মেসী থেকে এন্টিবায়োটিক কিনে ব্যাবহারের ফলে, সাধারণ ডায়রিয়ার সাথে এণ্টিবায়োটিক ইন্ডিউসড ডায়রিয়া যুক্ত হয়ে রোগীর অবস্থার অবনতির হয় দ্রুতো। ডায়রিয়া শুরু হতে না হতেই মেট্রোনিডাজল, এজিথ্রোমাইসিন, সিপ্রোফ্লক্সাসিন নামক ওষুধ গুলোর জন্য আমরা ফার্মেসীতে হুমড়ি খেয়ে পড়ি, যা রোগীর লাভের চেয়ে ক্ষতির কারন হয়ে দাঁড়ায়। কিছু নির্দিষ্টক্ষেত্রে ডায়রিয়া জনিত অসুখে এন্টিবায়োটিক, এন্টিপ্রটোজোয়াল ড্রাগ বা লোপেরামাইড ব্যাবহার করা যেতে পারে, যা ডাক্তার ছাড়া অন্য কারো পরামর্ষে, না বুঝে ব্যবহার করলে রোগীর ক্ষতি হতে পারে। ডায়রিয়া জনিত পেট ব্যাথায় এসিডিটির ওষুধ বা ব্যাথা নাশক ওষুধের ব্যাবহারে ও বিধিনিষেধ রয়েছে।

ডায়রিয়ায় করণীয়ঃ

ডায়রিয়া হলে ডাক্তারের পরামর্ষ ছাড়া এন্টিবায়োটিক, এন্টিপ্রটোজোয়াল ড্রাগ, এন্টি আলসারেন্ট (গ্যাষ্ট্রিকের ওষুধ), এণ্টিস্পাজমোটিক (পেটে ব্যাথার ওষুধ) বা লোপেরামাইড ব্যাবহার না করে রোগীকে বেশি বেশি পানি, খাবার স্যালাইন, ডাবের পানি এবং তরল খাবার প্রচুর পরিমানে দেয়া উচিৎ। কিডণী রোগে আক্রান্ত হয়ে যাদের রক্তে পটাশিয়াম এর পরিমান বেশী থাকে, তাদের ডায়রিয়া হলে ডাবের পানি পরিহার করাই উত্তম, এ ক্ষেত্রে রোগীকে পানি এবং তরল খাবার দিতে থেকে দ্রুতো চিকিৎসকের পরামর্ষ নেয়া উচিত। মনে রাখা দরকার, সাধারন ডায়রিয়ার চিকিৎসার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে একই গাইডলাইন অনুসরন করা হয়, যার মূলকথা শরীর থেকে বেড়িয়ে যাওয়া পানি এবং লবনের অভাব পূরন করা। তাই ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীকে বেশি বেশি পানি, খাবার স্যালাইন, ডাবের পানি এবং তরল খাবার প্রচুর পরিমানে দিন, সাথে স্বাভাবিক সব ধরনের খাবারই দেয়া যাবে, তবে দুধ এবং দুধ জাতীয় খাবার ডায়রিয়া চলাকালীন সময়ে পরিহার করাই ভালো।

ডাঃ মোহাম্মদ শাকিলুজ্জামান

এম বি বি এস, পেইন ফেলো (ইন্ডিয়া), পিজিটি (ই এন্ড টি)

জেনারেল ফিজিশিয়ান।

Offer, Discount, Cashback & Many More

X