পিরিফর্মিস সিনড্রোম, কোমড় ব্যাথা বা লো ব্যাক পেইন একটি খুবই কমন শারীরিক সমস্যা। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সারাবিশ্বে প্রতি বছর প্রায় ৪০ লক্ষ মানুষ কোমড় ব্যাথা সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে ডাক্তারের শরনাপন্ন হয়ে থাকেন। নানাবিধ কারনে কোমড় ব্যাথা হয়ে থাকে। তবে, এই ৪০ লক্ষ কোমড় ব্যাথা বা লো ব্যাক পেইন এর রোগীদের প্রায় ২.৪ লাখ রোগীদের লক্ষন থাকে নিতম্বে বা তার আশেপাশে ইলেকট্রিক শক লাগার মতো বা জ্বালাপোড়ার মতো ব্যাথা অথবা ঐ অংশে অবশ ভাব। এ ধরনের সমস্যাগুলোর পেছনে যে অসুখটি রয়েছে, মেডিকেল সাইন্সে সে অসুখটিকে বলা হয় “পিরিফর্মিস সিনড্রোম”। সাধারনত পিরিফর্মিস সিনড্রোম এ পুরুষদের চাইতে মহিলারা ছয় গুণ বেশী আক্রান্ত হয়। না জানা, ভূল জানা অথবা অবহেলাজনিত কারনে পিরিফর্মিস সিনড্রোম এ আক্রান্ত রোগীরা পরবর্তীতে বড় ধরনের শারীরিক সমস্যায় পড়ে থাকেন। কমন কিন্তু জটিল এ অসুখটি নিয়েই আজ আমাদের লিখা। লিখেছেন; অভিজ্ঞ পেইন কনসালটেন্ট ডা: মোহাম্মদ রাসেল আরাফাত।

সব ধরনের ওষুধ বা ফার্মেসী প্রোডাক্টের হোমডেলিভারি পেতে অর্ডার করুন, রয়েছে ডিসকাউন্ট এবং অফার।
সর্বোচ্চ মান সম্পন্ন নির্ভেজাল ওষুধের জন্য আপনার সেবায় Khidmat Drug Outlet

পিরিফর্মিস সিন্ড্রোম বা নিতম্বে ব্যাথা

পিরিফর্মিস সিন্ড্রোম এমন এক শারীরিক সমস্যা, যেখানে পিরিফর্মিস পেশী সংকোচিত হয়ে তার নিকটস্থ সায়াটিক নার্ভ বা স্নায়ুকে চাপ দেয় যার ফলে নিতম্ব এবং পায়ের পিছনে ব্যাথা হয়।

পিরিফর্মিস সিন্ড্রোম এর কারন

এই ব্যাথার সঠিক কারন নির্দিষ্ট ভাবে জানা যায়নি এখনো। কিন্তু সন্দেহজনক কারন গুলো হচ্ছেঃ

১। পিরিফর্মিস পেশীতে সংকোচন যা এই পেশীকে বা কাছের কোন শারীরিক কাঠামোতে প্রদাহ বা জ্বলন তৈরী করে( যেমন স্যাক্রোইলিয়াক অথবা হিপ জয়েন্ট )।
২। পিরিফর্মিস পেশীতে টান লাগা বা ফুলে যাওয়া।
৩। পিরিফর্মিস পেশীর সংকোচন বা টান লাগার জন্য রক্তপাত হওয়া।

উপরের সমস্যাগুলোর যেকোন একটি বা সবগুলোর সংমিশ্রনের কারনে নিতম্বের ব্যাথা তৈরী হয় এবং সংলগ্ন সায়াটিক স্নায়ুকেও আক্রান্ত করে যা পায়ের পিছনে ব্যাথা, ঝিঝি ভাব বা  অবশ অবশ বোধ তৈরী করে।

পিরিফর্মিস সিন্ড্রোম এর উপসর্গ ও লক্ষণ সমূহ

১। নিতম্বে নিস্তেজ ধরনের ব্যাথা, যা পায়ের পিছনের দিক দিয়ে পায়ের পাতা পর্যন্ত যায়।
২। সিঁড়ি দিয়ে উঠানামা করার সময় ব্যাথা ।
৩। দীর্ঘক্ষন বসে থাকলে এ ধরনের ব্যাথা বাড়ে।
৪। হিপ জয়েন্টের নড়াচড়া সীমিত হয়ে যাওয়া।
৫। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, হাটা বা দৌড়ানোর কারনে ব্যাথা বেড়ে যায় এবং চিৎ হয়ে শুয়ে থাকলে কিছুটা আরাম হয়।

পিরিফর্মিস সিন্ড্রোম এর রোগনির্ণয়

মূলত এই রোগ নির্ণয় করা হয়  রোগের ইতিহাস ও কিছু শারীরিক পরীক্ষার উপর ভিত্তি করে। ডায়াগনোস্টিক টেষ্ট দিয়ে এ রোগ নির্ণয় করা যায় না । তবে এক্স-রে, এম আর আই ও নার্ভ কনডাকশন টেস্ট এর মাধ্যমে একই উপসর্গের অন্যান্য রোগ গুলো যেমন; ডিস্ক হার্নিয়েশন, স্যাক্রোইলিয়াক জয়েন্ট এ প্রদাহ, স্পাইনাল স্টেনোসিস ইত্যাদি সমস্যাগুলো থেকে পিরিফর্মিস সিনড্রোম কে আলাদা করা হয়। ব্যাথার উৎস পিরিফর্মিস পেশী কিনা, কখনো কখনো পিরিফর্মিস পেশীতে ইঞ্জেক্টএবল স্টেরয়েড বা/এবং লোকাল এনেসথেটিক্স ইনজেকশন দিয়ে তা নিশ্চিত করা হয়ে থাকে।

পড়ুনঃ কিডনী রোগের বিস্তারিত

Piriformis-Syndrome

এই রোগের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন সমন্বিত পদ্ধতি; যেমনঃ

১। বরফ ও হিট থেরাপি ।
২। শারীরিক ব্যায়াম যেমন; পিরফর্মিস স্ট্রেচ, হ্যামস্ট্রিং স্ট্রেচ।
৩। শারীরিক থেরাপি যেমন; রেঞ্জ অব মোশন ব্যায়াম বা গভীর মেসেজ থেরাপি ইত্যাদি।
৪। কিছু ঔষধ যেমন; আইবুপ্রোফেন বা ন্যাপ্রোক্সেন এর মত প্রদাহরোধক ঔষধ খাওয়া যেতে পারে।
৫। পিরিফর্মিস পেশীতে ইনজেকশন যেমন- স্টেরয়েড বা বোটক্স ইনজেকশন।
৬। ইলেক্ট্রো থেরাপী – টেনস বা আই এফ সি ।



আপনি যদি আপনার পিরিফর্মিস সিন্ড্রোম এর লক্ষণ আছে বলে মনে করে থাকেন, দেরী না করে দ্রুতো একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসায় এ সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন।
আজ এ পর্যন্তই, শীঘ্রই নতুন কোনো শারীরিক সমস্যার ব্যাপারে লিখা নিয়ে হাজির হবো আপনাদের সামনে, সে পর্যন্ত সুস্থ্য থাকুন, ধন্যবাদ।

ডা: মোহাম্মদ রাসেল আরাফাত
কনসালট্যান্ট, এনেস্থেশিয়া ও ইন্টারভেনশনাল পেইন ম্যানেজমেন্ট।
শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতাল

তথ্যসূত্রঃ
Medical Books
Authors Clinical Experience
Internet

  • 35
    Shares
  • 35
    Shares

Offer, Discount, Cashback & Many More

X