হার্ট এটাক এড়াতে খাদ্যাভাস

হার্ট এটাক, ভুল ধারনা নিয়ে আমরা…৪র্থ পর্ব

On This Post

আপনি জানেন কি?
সারাবিশ্বে প্রতি বছর, সবচেয়ে বেশী মানুষের মৃত্যু হয় কোন অসুখে?
উত্তর হলো, হার্ট (হার্ট এটাক) এবং রক্তনালির অসুখে

আরো নির্দিষ্ট করে বললে,

হার্ট এটাকে…!!!”

প্রাণঘাতী এই রোগ নিয়ে, প্রচলিত ভুল ধারনা গুলোর ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধিই আজকের লিখার উদ্দেশ্য

৪র্থ পর্বে থাকছে, হার্ট এটাকের পর রোগীর জীবনযাত্রা নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারনা গুলোর ব্যাপারে তথ্য।

ভুল ধারনা-১। “আমার হার্ট এটাক হয়েছে, ব্যায়াম, পরিশ্রম নিষেধ, এখন প্রয়োজন শুধু বিশ্রাম…”

হার্ট এটাকের পর শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক হওয়া মাত্রই যতো দ্রুতো সম্ভব, স্বাভাবিক কাজকর্ম শুরু করা উচিত।  প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাটা এ ধরনের রোগীদের জন্য অত্যাবশকীয়। শুরুতে টানা ৩০ মিনিট না হেটে ১০ মিনিট করে ধাপে ধাপে ৩০ মিনিটে পৌছানোই ভালো। এ ছাড়াও অন্যান্য মাঝারী ধরনের ব্যায়াম, যেমন দ্রুত হাঁটা. হালকা জগিং, ট্র্যাডমিলের উপর হাঁটা বা জগিং, সাইকেল চালানো, অবসর সময়ে সাঁতার কাটা ইত্যাদি আপনার হার্টকে সুস্থ্য রাখবে। হার্ট এটাকের পর তাই শুধু বিশ্রাম, এ ধারনা ঠিক নয়।

যে কোনো ধরনের ওষুধের হোম ডেলিভারীর জন্যঃ Order Now

ভুল ধারনা-২। “আমার হার্টে রিং পড়ানো হয়েছে, আমার আর সমস্যা হবে না, হার্ট এটাকের সম্ভাবনাই নেই…”

করোনারী আর্টারি ষ্টেন্টিং (যা সহজ ভাষায় রিং পড়ানো বলা হয়) এর পর পুনরায় ওই রক্তনালি ব্লক হয়ে আবার হার্ট এটাক হবার সংখ্যা ৫-২০%। মানে হলো রিং পড়ানোর পর ও, প্রায় ৫-২০ ভাগ রোগীর পুনরায় হার্ট এটাকের সম্ভাবনা থাকে। পুনরায় হার্ট এটাক  হবে কিনা তা নির্ভর করে, কি ধরনের রিং পড়ানো হয়েছে, প্রথমবার রিং পরানোর পর রোগী নিয়ম অনুযায়ী চলছে কিনা এবং রোগীর অন্যান্য শারীরিক অসুস্থ্যতা ইত্যাদির উপর। তাই এটা ভাবা ঠিক নয় যে, রিং পড়ালেই আর কখনো হার্ট এটাকের সম্ভাবনা নেই, নিয়ন্ত্রিত জীবন যাপনের মাধ্যমে রোগী এই সম্ভাবনা কমিয়ে আনতে পারেন।

ভুল ধারনা-৩। “আমার বাইপাস সার্জারী হয়েছে, রক্তনালি এবং হার্ট অপারেশন করে ঠিক করে দিয়েছে, আমার আর সমস্যা হবে না, হার্ট এটাকের সম্ভাবনাই নেই…”

বাইপাস সার্জারি করে নতুন ভাবে যে রক্তনালীটি আপনার হার্টে গ্রাফট করে দেয়া হয়েছে, তার সুফল হিসেবে পরবর্তী ১০-১৫ বছর পর্যন্ত আপনার হার্ট এটাক জনিত কোনো সমস্যা হবার কথা নয়। কিন্তু এ সময়ের আগেই কিছু সংখ্যক রোগীদের ওই গ্রাফট করে দেয়া রক্তনালীতেই ব্লক হবার সম্ভাবনা থাকে। নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এবং নিয়মিত ওষুধ ব্যাবহার না করলে আবার হার্ট এটাক হতে পারে আপনারো।

ভুল ধারনা-৪। “আমার হার্ট এটাক হয়েছিলো, হাইপ্রেশারের ওষুধ খেতে দিয়েছিলো ডাক্তার, এখন প্রেশার নিয়ন্ত্রনে, তাই ওই ওষুধ আর খাই না। ওষুধ ছাড়াই নিয়ন্ত্রনে থাকলে ওষুধ খাবো কেনো?”

হার্ট এটাকের পর সাধারনত ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রনের জন্য যে ওষুধ গুলো ব্যাবহার করা হয়, সে ওষুধ গুলো ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রনের পাশাপাশি হার্ট এটাকের কারনে হার্টের যে অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সে অংশগুলো পুনর্গঠনের কাজ ও করে থাকে। তাই ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রনে থাকলে ও, ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওই ওষুধ বন্ধ করা যাবে না।

ভুল ধারনা-৫। “আমার ছোটোখাটো একটা হার্ট এটাক হয়েছিলো, এটা তেমন কিছু না…”

আপনার হার্ট এটাক হয়েছিলো? তৃতীয় পর্বে লিখেছিলাম, হার্টের প্রধান তিনটি রক্তনালির কোনটি ৭০% বা এর বেশী ব্লক হলে হার্ট এটাক হয়। যদি আপনার হার্ট এটাক হয়ে থাকে, এনজিওগ্রাম না করিয়ে থাকলে ও আনুমানিক ধরে নিন, আপনার হার্টের প্রধান রক্তনালি গুলোর একটি, দুটি বা সব গুলোরই ৭০% ব্লক হয়ে গেছে ইতিমধ্যেই, এর পরে ও ভাবছেন এটা তেমন কিছু না? কখন তবে তেমন কিছু ভাববেন? ১০০% ব্লক হলে?

ভুল ধারনা-৬। “আমার হার্ট এটাক হয়েছে, তেল বা তেল জাতীয় খাবার সম্পূর্ন নিষেধ…”

একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের শরীরে গড়ে ৫০ গ্রাম ফ্যাট/স্নেহজাতীয় খাবারের প্রয়োজন। হার্ট এটাকের পর আপনি যদি ফ্যাটজাতীয়  খাবার একদমই বাদ রাখেন, শরীর তার প্রয়োজনীয় ফ্যাট পাবে কিভাবে? সব ধরনের ফ্যাট হার্টের জন্য ক্ষতিকর নয়। হার্টের জন্য ক্ষতিকর নয়, এমন ফ্যাট/তেল জাতীয় খাবার, যেমনঃ সামুদ্রিক মাছ, ক্যানলা অয়েল, অলিভ অয়েল, রাইসব্র‍্যান অয়েল, বাদাম ইত্যাদি হতে পারে আপনার জন্য ফ্যাটের ভালো উৎস। তাই ফ্যাট/স্নেহ/তেল জাতীয় খাবার একদম নিষিদ্ধ নয়, বরং বাছাই করে খেতে হবে।

ভুল ধারনা-৭। “হার্ট এটাক হলে গরুর মাংস খাওয়া সম্পূর্ণ নিষেধ…”

গরুর মাংসে সব ধরনের এমাইনো এসিড থাকায় এটি কমপ্লিট বা সম্পূর্ণ প্রোটিন। প্রচুর পরিমানে আয়রন থাকায় শরীরের আয়রনের ঘাটতি পূরনে গরুর মাংস আদর্শ খাবার। আপনি যদি পুরোপুরি ভাবে গরুর মাংস বাদ রাখেন, শরীরে প্রোটিন আর আয়রনের চাহিদা পূরনে সমস্যা হবে না? গরুর মাংস নিষেধ নয়, নিষেধ হলো চর্বিযুক্ত গরুর মাংস। গরুর পেছনের পায়ের ওপরের অংশ ও পিঠের মাংসে প্রোটিন বেশি কিন্তু চর্বি কম।  গরুর পিঠ, দাবনা ও পেছনের পায়ের মাংসে লিন মিট আছে, যা হার্টের রোগীরা খেতে পারেন। আবার কুঁজ, গলা ও সিনার মাংস, মগজ, পায়া, নেহারি, হাড়ের মজ্জা ইত্যাদিতে চর্বির মাত্রা অনেক বেশি, তাই এগুলো হার্টের রোগীদের জন্য ক্ষতিকর।

লিখেছেনঃ

ডাঃ মোহাম্মদ শাকিলুজ্জামান

জেনারেল ফিজিশিয়ান

লেখক পরিচিতি

আজ পর্যন্তই, আগামীপর্বে থাকছে ব্লাড প্রেশার নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারনা গুলোর  তথ্য।

আরো পড়ুনঃ

হার্ট এটাক, ভুল ধারনা নিয়ে আমরা…. ১ম পর্ব

হার্ট এটাক, ভুল ধারনা নিয়ে আমরা… ২য় পর্ব

হার্ট এটাক, ভুল ধারনা নিয়ে আমরা…৩য় পর্ব

আমাদের ডাক্তার এখানে লিখছেন প্রতিদিনই, নিয়মিত স্বাস্থ্য বিষয়ক আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক বা ফলো করুন

  • 202
    Shares
  • 202
    Shares

Offer, Discount, Cashback & Many More

X