হার্ট এটাক, ভুল ধারনা নিয়ে আমরা… ২য় পর্ব

On This Post

আপনি জানেন কি?
সারাবিশ্বে প্রতি বছর, সবচেয়ে বেশী মানুষের মৃত্যু হয় কোন অসুখে?
উত্তর হলো, হার্ট এবং রক্তনালির অসুখে

আরো নির্দিষ্ট করে বললে,

হার্ট এটাকে…!!!”

প্রাণঘাতী এই রোগ নিয়ে, প্রচলিত ভুল ধারনা গুলোর ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধিই আজকের লিখার উদ্দেশ্য

 

২য় পর্বে থাকছে, কারা হার্ট এটাকের ঝুঁকিতে আছেন, নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারনগুলোর ব্যাপারে থ্যের পরবর্তী অংশ।

প্রথম পর্বের মতোই প্রথমে দেখে নেয়া যাক, হার্ট এটাকে আক্রান্ত হবার ঝুঁকি গুলো কি কি;

***চেষ্টা করলে নিয়ন্ত্রন করা যায় বা এড়ানো যায় এমন ঝুঁকি গুলো হলোঃ
হাই ব্লাডপ্রেশার থাকা, রক্তে অতিরিক্ত কোলেষ্টেরল, ধূমপানের অভ্যেস, স্থূলতা/মেদ, কম শারীরিক পরিশ্রমী জীবনযাত্রা, মদ্যপান, অপুষ্টি এবং মানসিক চাপ

***চেষ্টা করেও নিয়ন্ত্রন করা যায় না বা এড়ানো যায় না এমন ঝুঁকি গুলো হলোঃ
বাবা মায়ের হার্টের অসুখ থাকা (সেক্ষেত্রে সন্তানদের হার্টের অসুখ এর সম্ভাবনা বেড়ে যাবে), বয়স বাড়া (বয়স্কদের আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেশী), পুরুষ (মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের ঝুঁকি বেশী)

ছাড়াও অন্যান্য অসুখের উপস্থিতিতে (যেমনঃ ডায়াবেটিস বা কিডনীর সমস্যা) হার্টের অসুখের সম্ভাবনা বেড়ে যায়

ভুল ধারনা-১। আমি চা, পান, সিগারেট, তামাক বা নেশাজাতীয় কোনো কিছুতেই আসক্ত নই, আমার হার্ট এটাক হবে না।

 

ধূমপান হার্ট এটাক হবার ঝুকি গুলোর মধ্যে একটি মাত্র বিষয়। আপনি ধূমপান, তামাক বা নেশাজাতীয় কিছুতে আসক্ত না হলে ও উপরে লিখা অন্যান্য ঝুঁকি গুলোর কারনে ও আপনার হার্ট এটাক হতে পারে। আর, চা পান করলে হার্ট এটাক হবার ঝুঁকি আছে, এমন তথ্য এখনো আসেনি। 

সব ধরনের ওষুধের হোম ডেলিভারী পেতেঃ Order Now

ভুল ধারনা-২। বাপ দাদা চৌদ্দপুরুষের কারো হার্টের সমস্যা ছিলো না, তাই হার্টের সমস্যার ঝুঁকি আমার নেই

 

আপনি সৌভাগ্যবান, আপনার ফ্যামিলি হিষ্ট্রিতে হার্টের অসুখ নেই, তাই হার্ট এটাকের একটা ঝুঁকি আপনার কম ধরা যায়, কিন্তু অন্যান্য ব্যাপার গুলোর কি হবে? যে বিষয় গুলোর উপর হার্ট এটাকের ঝুঁকি নির্ভর করছে, উপরে সে সব উল্লেখ করেছি। যদি সে সব আপনার থাকে, ঝুঁকিতে আছেন আপনিও।

ভুল ধারনা-৩। বাপ দাদা চাচা সবারই হার্টের সমস্যা আছে, আমারো হবে নিশ্চিত, তাই ভেবে লাভ নেই, করার কিছু নেই

 

উনাদের ছিলো বলে আপনার হবেই, এমন গ্যারান্টি তো দেয়া হয়নি, বলা হয়েছে ঝুঁকিতে আছেন আপনি ও। তাই নিরাশ না হয়ে হার্ট এটাকের অন্যান্য যেসব কারন রয়েছে, সে গুলো থেকে নিজেকে বাচিয়ে রাখুন, ঝুঁকি কমে যাবে আপনারো।

ভুল ধারনা-৪। আমি পরিশ্রমী, স্লিম ফিগারের মানুষ, আমার হার্ট এটাক হবে না, হার্ট এটাক হয় মোটা আর অলসদের

 

মোটা বা প্রয়োজনের তুলনায় কম পরিশ্রম করা মানুষদের হার্ট এটাক হবার সম্ভাবনা বেশী। এ দুটো ছাড়া আর অন্যান্য ব্যাপার গুলোর কথা ভুলে গেলেন? উপরে দেয়া ঝুঁকির কারন গুলো দেখে নিন আরেক বার, আপনার সে সব নেইতো? যদি থেকে থাকে, ঝুঁকিতে আছেন আপনি ও।

ভুল ধারনা-৫। ফেসবুকে পোষ্ট দেখি, ভিটামিন, তৈলাক্ত মাছ এসব নিয়মিত খেলে হার্ট এটাক হয় না, তাই এসব খাই নিয়মিত, আমার হার্ট এটাক হবে না

 

খাচ্ছেন, ভালো কথা। কিন্তু ভিটামিন আর তৈলাক্ত মাছ খেলে হার্ট এটাক হবে না, এমন কিছুর গবেষণালব্ধ প্রমান ডাক্তারদের কাছে আসেনি এখনো। সামুদ্রিক মাছ, রক্তে ভালো ধরনের কোলেস্টেরল বাড়ায়, যা হার্টের জন্য ভালো, কিন্তু তারমানে এই নয় যে, এতে আপনার হার্ট এটাক হবে না। ফেসবুক বা ইন্টারনেটে কোনো তথ্য পেলে সবার উচিত, তথ্যের উৎস কি, কে তা দিচ্ছেন, তা যাচাই করা। স্বাস্থ্যের ব্যাপারে ডাক্তারের চেয়ে ভালো যদি অন্য কেউ জানে বলে ভাবেন, সেক্ষেত্রে বলার থাকে না কিছুই।

লিখেছেনঃ

ডাঃ মোহাম্মদ শাকিলুজ্জামান

জেনারেল ফিজিশিয়ান

লেখক পরিচিতি

আজ পর্যন্তই, আগামীপর্বে থাকছে হার্ট এটাকের লক্ষন গুলো নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারনা গুলোর  তথ্য।

আরো পড়ুনঃ

হার্ট এটাক, ভুল ধারনা নিয়ে আমরা…. ১ম পর্ব

আমাদের ডাক্তার এখানে লিখছেন প্রতিদিনই, নিয়মিত স্বাস্থ্য বিষয়ক আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক বা ফলো করুন

  • 57
    Shares
  • 57
    Shares

1 thought on “হার্ট এটাক, ভুল ধারনা নিয়ে আমরা… ২য় পর্ব”

  1. Pingback: ক্যান্সার, ভুল ধারনায় আমরা...২য় পর্ব ~ khidmat Drug Outlet

Comments are closed.

Offer, Discount, Cashback & Many More

X