নেবুলাইযেশন

নেবুলাইযার, ৭টি বিষয় দেখে কিনুন

নেবুলাইযার, ৭টি বিষয় দেখে কিনুন...

শ্বাসকষ্টজনিত অসুখের চিকিৎসায় নেবুলাইযেশন একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সঠিক মাত্রায় নেবুলাইযেশন না হলে শ্বাসকষ্টের চিকিৎসা অনেকক্ষেত্রেই শতভাগ ফল দেয় না।

শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ডাক্তার আপনাকে বাসায় নেবুলাইযার ব্যাবহারের পরামর্শ দিয়ে থাকলে, একটি ভালো মানের নেবুলাইযার কিনে ফেলা জরুরি। কোন  নেবুলাইযার মেশিনটি আপনার জন্য সব দিক থেকে ভালো হবে, তা মিলিয়ে নিন নিচের পয়েন্টগুলো থেকে।

 

নেবুলাইযেশন

১. কি ধরনের নেবুলাইযার আপনার প্রয়োজনঃ

বর্তমানে তিন ধরনের নেবুলাইযার মেশিন বাজারে পাওয়া যাচ্ছে।
প্রথমেই নির্দিষ্ট করে নিন এই তিন ধরনের নেবুলাইযার এর মধ্যে কোনটা আপনার প্রয়োজন। এগুলো হলোঃ

– জেট বা কম্প্রেসর নেবুলাইযার

দামে সাশ্রয়ী এবং ব্যাবহার সহজ বলে জেট নেবুলাইযার সারাবিশ্বে সবচেয়ে বেশী ব্যাবহার হয়। বর্তমানে উন্নত ধরনের টেকনোলজির ব্যাবহারে জেট নেবুলাইযারের কার্যকারিতা বেড়েছে বহুগুণ।

সাশ্রয়ীমূল্যে ভালো সার্ভিস পেতে আপনার জন্য আদর্শ হতে পারে এ ধরনের নেবুলাইযারগুলো।

– আল্ট্রাসনিক নেবুলাইযার

আল্ট্রাসনিক নেবুলাইযার গুলো দাম বেশী এবং সাইজে বড়ো। এ ধরনের মেশিন গুলোতে প্রয়োজনীয় মাত্রার চেয়ে বেশী পরিমানে ওষুধ লেগে থাকে।
বেশী মাত্রায় তাপ তৈরি হয়ে এ ধরনের মেশিনে ওষুধের কার্যকারিতা ঠিক থাকে না বলে ও কিছু গবেষনায় এসেছে।

– ম্যাশ নেবুলাইযার

ম্যাশ নেবুলাইযার গুলোর দাম সবচাইতে বেশী।
ব্যাবহারের পর পরিষ্কার করা কঠিন এবং সব ধরনের ওষুধ এ মেশিনে ব্যাবহার করা যায় না।
তাই এখন পর্যন্ত খুব বেশী ব্যাবহার হয় না এ ধরনের নেবুলাইযার গুলো।

২. নেবুলাইযারের পার্টিকেল সাইয কতোঃ

শ্বাসকষ্ট হতে পারে শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন অসুখে। নেবুলাইযার মেশিনগুলো তরল ওষুধকে গ্যাসে পরিনত করে শ্বাসনালীতে প্রেরণ করে থাকে। কোন সাইযের পার্টিকেল আপনার নেবুলাইযার তৈরি করছে, তা বুঝা জরুরী।
কারন সব সাইযের পার্টিকেল শ্বাসতন্ত্রের সব জায়গায় একই রকম কাজ করে না।
৩ মাইক্রোমিটারের (<3μm) নিচের পার্টিকেল সাইয ফুসফুসের এলভিওলাই এ সবচেয়ে বেশি পরিমানে ওষুধের পরিমান নিশ্চিত করে। তাই আপনার নেবুলাইযার এর পার্টিকুলেশন সাইয ৩ মাইক্রমিটারের কম কিনা,
কেনার আগে দেখে নিন।

৩. নেবুলাইযেশন রেট কতোঃ

কতো দ্রুতো আপনার নেবুলাইযার নেবুলাইয করতে পারছে, তীব্র শ্বাসকষ্টের রোগীদের জরুরি নেবুলাইযেশনের ক্ষেত্রে এ বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
বুঝার সুবিধার্থে উদাহরন দিচ্ছিঃ <০.৪মিলি/মিনিট নেবুলাইযার রেটের একটি মেশিন,
৩/৪ মিলি ওষুধ আনুমানিক ৫ থেকে ৮ মিনিটে নেবুলাইয করতে পারে।
নেবুলাইযারের নেবুলাইযেশন রেট <০.৪মিলি/মিনিট  কিনা, দেখে কিনুন।

৪. মেডিকেশন ক্যাপাসিটি কতোঃ

মেডিকেশন চেম্বারের ধারন ক্ষমতা কম হলে, বার বার রিফিল করে করে নেবুলাইয করতে হবে, যা জরূরী প্রয়োজনের সময় বিপত্তির কারন হতে পারে। ৬/৭ মিলি ধারন ক্ষমতার মেডিকেশন চেম্বারযুক্ত মেশিন হলে এ ধরনের বিপত্তি এড়ানো যায়। তাই মেডিকেশন চেম্বারের ধারন ক্ষমতা ৬,৭ বা তার বেশি কিনা দেখে কিনুন।

৫. শব্দের মাত্রা কতো ডেসিবেলঃ

২ ঘন্টা, ৪ ঘন্টা, ৬ ঘন্টা, ৮ ঘন্টা বা ১২ ঘন্টা পর পর রোগীর নেবুলাইযেশন দরকার পড়তে পারে, অবস্থা অনুযায়ী। বার বার ব্যাবহার করা অবস্থায় নেবুলাইযার মেশিন বেশী মাত্রায় শব্দ তৈরি করলে তা,রোগী এবং সবার জন্যই বিরক্তিকর।
৫৫ ডেসিবেলের নিচে শব্দ তৈরি করে, এমন জেট নেবুলাইযার দেখে কিনুন, শব্দের যন্ত্রনা কমবে তাতে।

৬. মেইনটেনেন্স সহজ কিনাঃ

ব্যাবহারের পর পরিষ্কার না করলে নেবুলাইযার মেশিন হতে পারে বাড়তি রোগের উৎস।
তাই সহজে পরিষ্কার করা যায়, কেনার আগে তেমন নেবুলাইযার খুজে নিন।

৭. রিপ্লেসমেন্ট গ্যারান্টি আছে কিনাঃ

বাজারে থাকা অনেক নেবুলাইযারগুলোর রিপ্লেসমেন্ট গ্যারান্টি নেই।
কেনার পর সমস্যা হলে এ নিয়ে জটিলতায় ভোগার চাইতে রিপ্লেসমেন্ট গ্যারান্টি আছে, তেমন নেবুলাইযার কিনুন।

তথ্যসূত্রঃ

NCBI

& Collected.

আমাদের ব্লগে ডাক্তার লিখছেন নিয়মিত।
পড়তে ক্লিক করুনঃ

Doctors Corner

আমাদের ব্লগ নিয়মিত পড়তে পেজে লাইক দিন বা ফলো করুন।

  • 40
    Shares
  • 40
    Shares

Offer, Discount, Cashback & Many More

X